হাকিম ডাকাত পর্বের পরিসমাপ্তি কতদূর?

সম্পাদকীয়

টেকনাফ পাহাড়ী জনপদ দূর থেকে শান্ত স্নিগ্ধ মনে হলেও শান্তি নেই সেই জনপদে। আছে ভয় আর আতঙ্ক। এই জনপদের পাহাড়ের গা ঘেঁষে রয়েছে অসংখ্য গ্রাম।
গ্রামগুলোর মানুষ দিনের আলোয় চলাচল করলেও রাতে সবাই থাকেন একসঙ্গে। কারণ পাহাড়ে আছে ভয়ঙ্কর হাকিম। যাকে হাকিম ডাকাত নামেই সবাই চিনে। মিয়ানমারের বিদ্রোহী এই নেতা আবদুল হাকিম প্রকাশ ওরফে হাকিম ডাকাত যখন তখন নেমে আসতে পরে। কারণ রাতেই এরা তৎপর। গ্রামের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে তুলে নিয়ে যায় গ্রামবাসীদের। মুক্তিপণের টাকা না পেলে পড়ে থাকে তাদের লাশ। হাকিম ডাকাত এখন মিয়ানমার আরাকানের আলেকীন পার্টির নেতা হিসেবেও কাজ করছে। রোহিঙ্গা এই ডাকাতের কারণে নৈসর্গিক সুন্দর টেকনাফের সবুজ পাহাড়গুলো কয়েক বছর ধরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।

মাদক পাচার,অপহরণ, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ এসব যেন তার কাছে তুচ্ছ বিষয়। আর এইসবের পেছনে তার ছায়া হিসেবে কাজ করেন এলাকার কিছু নেতা। এই নেতারা এই ভয়ঙ্কর রোহিঙ্গা ডাকাতকে আশ্রয় পশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জনমনে প্রশ্ন, এত অভিযানের পরেও রোহিঙ্গা আব্দুল হাকিম ডাকাত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফাঁদ থেকে বারবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে কোন অদৃশ্য বলে?

কে এই আব্দুল হাকিম ডাকাতঃ

ডাকাত আব্দুল হাকিম

মিয়ানমারের মংডু আনডাং কুলং বড়ছড়া এলাকার জানে আলম ওরফে জয়নাল আলীর ছেলে আবদুল হাকিম। মিয়ানমারে ম্যাট্রিক পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে হাকিম। গত দুই যুগ আগে হাকিম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তাকে খুন করে দেশ ছাড়ে এবং আশ্রয় নেয় টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে। কয়েক বছর পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে স্ত্রী-সন্তান ও পাঁচ ভাইকে। এরপর ৫ ভাইসহ আব্দুল হাকিম জড়িয়ে পড়েন নৌ-ডাকাতিতে। ইতোমধ্যই তার ৪ ভাই নজির আহমদ, কবির আহমদ, বশির ও হামিদ পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

আব্দুল হাকিম অতিশয় ধুরন্দর ও সুযোগসন্ধানী। ২০০৮ সালে কুতুবদিয়া দ্বীপে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্ম নিবন্ধনসহ ভোটার আইডি তৈরি করে নেয় হাকিম ও তার পরিবারের সদস্যরা। আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি আর্মি (আরসা) এর সাথে তার রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক।

হাকিম ডাকাতের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। মিয়ানমার থেকে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে আসার পর মিস্ত্রীপাড়ার জহির আহমদ ওরফে গাছ জহিরের মেয়ে ইসমত আরাকে বিয়ে করেন হাকিম। ইসমতের ভাই নুইজ্জা ডাকাত হাকিমের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে আসার অল্প সময়ের মধ্যেই টেকনাফ উপজেলা পরিষদের পেছনের সরকারি বনভূমিতে ভবন তৈরি করে বসবাস শুরু করে। কিন্তু পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে অন্য জায়গায় সরে যায়।

পল্লান পাড়ার নিকটে ছোট ছোট ২২টি পাহাড় রয়েছে। অন্তত ৭টি পাহাড় হাকিম ডাকাতের নিয়ন্ত্রণাধীন। এগুলো হলো বাজনতলী পাহাড়, সাংবাদিক শহীদ হোসেনের বাগানের পাহাড়, জালিয়া পাড়া, ল্যাদা ক্যাম্পের পাহাড়, মোচনী ক্যাম্পের পাহাড় ও কেরুনতলী পাহাড়। টেকনাফের পাহাড়গুলোতে চষে বেড়ায় হাকিম ডাকাতের দল। পাহাড়ের গহীন জঙ্গলে অবস্থান করায় তার খোঁজ পাওয়া এক প্রকার কঠিন হয়ে দাঁঁড়িয়েছে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চারপাশ থেকে অভিযান চালালেও কোন না কোন পথ ধরে হাকিম পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

টেকনাফের পুরান পল্লানপাড়া পাহাড়ে আস্তানা গড়েছেন হাকিম ডাকাত। কয়েক হাজার একর পাহাড় দখল করে সেখানে কায়েম হয়েছে রাম রাজত্ব। ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়, অস্ত্র প্রশিক্ষণসহ এমন কোন অপরাধ নেই যা সে করেনা। হাকিম ডাকাতের রয়েছে নিজস্ব অস্ত্রধারী চৌকস ফোর্স। সৃষ্টি করেছে নিজস্ব বাহিনী, কর টেক্স আদায়কারী ও সমন্বয়ক। তার বাহিনীর কাছে জিম্মি টেকনাফের মানুষগুলো। প্রশাসনও তার সঠিক কোন তথ্য পাচ্ছেনা। পাহাড়ের এই রাজার কাছে অনেকটা ‘অসহায়’ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তার কারণে এলাকা ছাড়া হয়েছে শত শত পরিবার। ঝরেছে অনেক তাজা প্রাণ। হাকিম ডাকাতের অন্যতম সহযোগি হিসেবে রয়েছে আপন সহোদর নজির আহমদ, কবির আহমদ, বশির আহমদ। এরা সবাই মিয়ানমারের মংডু জেলাধীন দক্ষিণ বড়ছড়া এলাকার বাসিন্দা জানে আলম ওরফে আবদুল জলিলের ছেলে। এই বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়েছে পল্লানপাড়ার সুলতানের ছেলে পাগলা ইউনুছ। স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, ক্ষমতাধর কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় আবদুল হাকিম ডাকাতের দল পাহাড়ে অবস্থান করে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। পুরান পল্লানপাড়া, জাহালিয়াপাড়া, বাহারছড়া, লেদা নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকার লোকজন তাদেরকে সহযোগিতা করে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫ সালের ১২ জুন সেলিম ওরফে মুন্ডি সেলিমকে হত্যা করে আব্দুল হাকিম। নুরুল কবির নামে একজনকেও খুন করে হাকিম বাহিনীর সদস্যরা। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের মংডুর বাসিন্দা নুরুল হকের ছেলে নুর হাফেজ ও নাইট্যংপাড়ার মৃত মোহাম্মদ কাশিমের ছেলে তোফায়েলকেও অপরহরণ করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আব্দুল হাকিমের বাহিনী পুরান পল্লান পাড়ার নুরুল কবিরের ছেলে আব্দুল কাদেরকে চার টুকরো করে হত্যা করেছিল। পরে তার লাশ পাহাড়ের ছড়ায় বাঁশ পুঁতে শুকাতে দেয়। এমন জঘন্যভাবে যে আব্দুল হাকিম মানুষের উপর নির্যাতন চালায় তা এক কথায় অবর্ণনীয়।

২০১৬ সালের ১৩ মে ভোররাতে হাকিম ও তার বাহিনীর সদস্যরা হামলা চালিয়ে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া মুছনী রোহিঙ্গাশিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ব্যারাকে লুটপাট চালায়। এসময় গুলিতে নিহত হন ব্যারাকের আনসার কমান্ডার মো. আলী হোসেন। এসময় আনসারের ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬৭০টি গুলি নিয়ে পাহাড়ে আত্মগোপন করে হাকিম ডাকাত। পরদিন হাকিমসহ বাহিনীর ৩৫ সদস্যের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় খুনসহ অস্ত্র লুটের মামলা হয়। পরে র্যাব বিভিন্ন আস্তানায় হানা দিয়ে লুন্ঠিত ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১৫টি গুলিসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।
২০১৬ সালের ৪ জুলাই বাড়িতে ঢুকে সাবেক ইউপি সদস্য ও সদর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ মেম্বারকে (৬৮) গুলি করে হত্যার পর লাইম লাইটে চলে আসে ডাকাত আব্দুল হাকিম।

সিরাজ মেম্বারের মরদেহ

খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা ব্যবসা আর মানবপাচার একচ্ছত্র আধিপত্য ডাকাত আব্দুল হাকিমের। নাফ নদী থেকে ইয়াবা লুট, সীমান্তের ওপার থেকে রোহিঙ্গাদের অপহরণ করে এপারে নিয়ে আসা এবং মুক্তিপণ না পেলে হত্যা করা এখন এই বাহিনীর নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। পাহাড় ও সরকারী জমি দখলে এই বাহিনীর নাম রয়েছে শীর্ষে। টেকনাফের নয়াপড়া শরণার্থী শিবিরের ভেতরের শালবন আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুট ও আনসার সদস্য হত্যা, মিয়ানমারের পুলিশ ক্যাম্পে হামলার সাথেও আব্দুল হামিদ জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রাথমিক তথ্য রয়েছে।
ডাকাত হাকিমের হাতে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে আবদুল লতিফের ছেলে নুরুল কবির, সিএনজি ড্রাইভার মো. আলী, মুন্ডি সেলিম, নতুন পল্লানপাড়ার ও আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ মেম্বার, আবদুল হাফিজ ও তোফায়েল অন্যতম। এছাড়া ওই বাহিনীটি অপহরণ করেছেন দুই শতেরও বেশি লোকজনকে। তাদের মধ্যে এখনো অনেকের হদিস মিলেনি। বাহিনীটির হাতে অপহৃতদের অনেকেই মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত এসেছেন।

টেকনাফ সীমান্তের ত্রাস, শীর্ষ ডাকাত ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আব্দুল হাকিম ডাকাতের নিরাপদ আস্তানা হল হ্নীলা পশ্চিম লেদার গহীন অরণ্যে। এখন এই আস্তানা নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ একটি সিন্ডিকেট।
টেকনাফ সীমান্তের ত্রাস, শীর্ষ ডাকাত ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আব্দুল হাকিম ডাকাতের অন্যতম নিরাপদ আস্তানা হল হ্নীলা পশ্চিম লেদার গহীন অরণ্যে। এখন এই আস্তানা নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ একটি সিন্ডিকেট।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,সম্প্রতি টেকনাফ সদরে আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম মেম্বার হত্যাকান্ডের পর হতে রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিমের দূর্গে প্রশাসনিক অভিযানের অজানা আতংক ছড়িয়ে পড়ায় পুরো উপজেলার পাহাড়ী জনপদের গহীণ অরণ্যে আস্তানা গড়ে তোলে। সম্প্রতি হ্নীলার নয়াপাড়া, মোচনী ও লেদা রোহিঙ্গা বস্তি সংলগ্ন পাহাড়ের গহীনে একটি আস্তানা গড়ে তুলেছে বলে লোকমুখে গুঞ্জন উঠে। কিছু বিপদগামী স্থানীয় ও ৷৷৷ রেহিঙ্গা যুবকের সমন্নয়ে এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে আব্দুল হাকিম। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ইয়াবা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে।

২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি RAB এর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ডাকাত আব্দুল হাকিমের সহযোগী ও টেকনাফ নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্প থেকে অস্ত্র লুট মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি নুরুল আলম।

২০১৮ সালের ৮ মার্চ নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে দুই ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয় হাকিম ডাকাতের অন্যতম সহযোগী হোছন আলী ওরফে বাইল্যা ডাকাত (৩০)।

২০১৯ সালের ৩ আগস্ট টেকনাফ উপজেলার নুরুল্লার ঘোনা নামক পাহাড়ি এলাকায় পুুলিশের সাথে বন্দুকযুুদ্ধে নিহত হয় আব্দুল হাকিমের সহযোগী মো. জুনায়েদ, মো. আইয়ুব ও মেহেদী।

একই বছর ৭ আগস্ট সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের গহীন পাহাড়ে র‌্যাব-৭ সদস্যদের সাঁড়াশি অভিযানে শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিমের দুই সহযোগিকে আটক করা হয়। এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১৭ টি দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও ৪৩৭ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকারের গুলি।

আব্দুল হাকিম ডাকাতের স্ত্রী ও ভাইয়ের মরদেহ

তার ঠিক একদিন পর অর্থাৎ ৮ আগস্ট বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় আব্দুল হাকিমের স্ত্রী রুবি আকতার (২৫) ও তার ভাই কবির আহমদ (৪২)।

২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর রাতে টেকনাফ বাহাছড়া শীলখালী মাঠপাড়া এলাকার ‘হেডম্যান’ আবুল কালামের বসতবাড়ির দরজা ভেঙে তার দুই স্কুলছাত্রী কন্যা লাকি ও তসলিমাকে অপহরণ করে গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায় আব্দুল হাকিমের সহযোগীরা। এ ঘটনার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। আব্দুল হাকিমকে ধরার জন্য শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান। অপহরণের দু’দিন পর (২২ অক্টোবর) মুক্তিপণের বিনিময়ে পরিবারের কাছে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ২৫ অক্টোবর আব্দুল হাকিম ও তার দলবলকে ধরার জন্য র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদের নেতৃত্বে ড্রোন নিয়ে অভিযানে নামে র‌্যাব। ডাকাত দলের কয়েকটি পরিত্যক্ত আস্তানা ধ্বংস করলেও হাকিম গ্যাংয়ের টিকিটিও ছুঁতে পারলোনা অভিযান পরিচালনাকারী দল।

গত ২৯ এপ্রিল, ২০২০ মিনাবাজার হ্যাডম্যানের ঘোনায় ধানক্ষেতে কাজে মগ্ন ৬ কৃষক আবুল হাশেম ও তার দুই পুত্র জামাল এবং রিয়াজুদ্দিন, শাহেদ, মৌলভী আকতারুল্লাহ ও ইদ্রিসকে অপহরণ করেছিল আব্দুল হাকিমের সশস্ত্র সহযোগীরা। পরে মুক্তিপণের বিনিময়ে ৫ জনকে ছেড়ে দিলেও মুক্তিপণে ব্যর্থ হয়ে ৪ মে, ২০২০ মৌলভী আকতারুল্লাহকে হত্যা করে হাকিম গ্যং। এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয় হাকিম গ্যংদের ধরতে।

সর্বশেষ গত শুক্রবার ২৬ জুন সকালে হ্নীলার গহীন পাহাড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে হলেও নিহত হয় তার দুই সহোদর বশির ও হামিদসহ ৪ সহযোগী কিন্তু ভাগ্যের গুনে আব্দুল হাকিম ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফাঁদ থেকে টেকনাফ পাহাড়ী জনপদের কুখ্যাত আব্দুল হাকিম ডাকাত বারবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়া স্থানীয়দের মাঝে উত্তরোত্তর আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুখ্যাত হাকিম ডাকাত ও দলবল নিধন না করা পর্যন্ত পাহাড়ী জনপদে অভিযান অব্যাহত রাখা এবং হাকিম গ্যংকে নিধন করে অত্র অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রবল আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জনসাধারণ।

অপরাধী যতই শক্তিশালী ও ধুরন্ধর হোক না কেন আইনের জালে ধরা পড়বেই আজ না হয় কাল, কাল না হয় পরশু। সমাজে অনিষ্ঠকারী অতীতেও পার পায়নি, ভবিষ্যতেও পার পাবেনা। কাজেই টেকনাফ পাহাড়ী জনপদের মূর্তিমান আতঙ্ক কুখ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিম পর্বের পরিসমাপ্তি অতি সন্নিকটে বলা যায়!

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply