হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা বন্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সিবিএল২৪ : হারবাল চিকিৎসার নামে প্রতারণা বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। রাজধানীর প্যারিস হোমিও কমপ্লেক্স ও ইউনানি ল্যাবরেটরিজসহ ২৮টির বেশি প্রতারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। আর এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করে প্রতারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। গতকাল জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য দেন স্বস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।  সংসদ সদস্য মো: সোহরাব উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে জানান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতারণামূলক হারবাল চিকিৎসা বন্ধের জন্য নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।
মন্ত্রী বলেন, প্রতারণামূলক হারবাল চিকিৎসার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাপূর্বক ঢাকাসহ দেশব্যাপী গত দেড় বছরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ৭১ হাজার ৩০ টাকা জরিমানা ও ১১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৮৫টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রতারণামূলক হারবাল চিকিৎসা বন্ধের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যেসব প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্যারিস হোমিও কমপ্লেক্স (যাত্রবাড়ী), দেশ হার্বাল (ফার্মগেট), কলিকাতা হারবাল চেম্বার (কদমতলী), শাহী দাওয়াখানা (মালিবাগ) ইত্যাদি। প্রতারণামূলক হারবাল চিকিৎসার বিরুদ্ধে সরকারের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। অন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়েক্রমে বার্ন ইউনিট স্থাপনের কার্যক্রম চলমান। এছাড়া পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলা হাসপাতালেও বার্ন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সংসদ সদস্য মো: রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কো¤পানি নিুমানের ভেজাল ওষুধ বাজারজাত করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাÍক হুমকির সৃষ্টি করছে। যা আংশিক সত্য। একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ওষুধের বাজার থেকে নকল-ভেজালসহ সব ধরনের অবৈধ ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত প্রতিরোধে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর নিয়মিত তদন্ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ওষুধ উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠান ও ওষুধের বাজার থেকে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা জন্য সরকারি ওষুধ বিশ্লেষকের কাছে পাঠান। সরকারি ওষুধ বিশ্লেষক কোনো ওষুধ মান-বহির্ভূত ঘোষিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরসহ প্রচলিত ওষুধ আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং বাজারজাত সাময়িক বাতিল করা হচ্ছে। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিনিধি ও ?াবসহ গঠিত বিভিন্ন মোবাইল কোর্টে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ওষুধ শিল্পে অনিময় প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযানে অংশ নিয়ে দায়িত্বপালন করে আসছেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply