২০১২ সালে গণনায় হয়েছিল ভুল, মায়া-পূর্বাভাসে চলতি সপ্তাহেই ধ্বংস হবে পৃথিবী!

সিবিএল২৪:

২০১২ সালে ২১ ডিসেম্বর, পৃথিবী ধ্বংসের সম্ভাবনা নিয়ে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল বিশ্ব। কিন্তু সেই হিসাবটি ভুল। শুধু ভুল নয়, এমন মারাত্মক ভুল যে পৃথিবী ধ্বংসের সময় আন্দাজ করার সুযোগ আর নেই। কারণ, মায়া ক্যালেন্ডারের হিসাবে জুন মাসেই প্রবল বিপদের মুখে পড়তে চলেছে পৃথিবী।

ময়া

মায়া ক্যালেন্ডার শুরু হয়েছে আজ থেকে ৫ হাজার ১২৫ বছর আগে। আর বলা হচ্ছিল, ক্যালেন্ডার শেষ হয় ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর। আর কনস্পিরেসি থিয়োরিস্টরা বলেছেন, সেই দিনেই পৃথিবী ধ্বংস হতে পারে। কিন্তু সেদিন কিছুই হয়নি। এতদিন বাদে, মানে প্রায় ৮ বছর পর থিয়োরিস্টরা নিজেদের হিসাবের গোলমাল খুঁজে বের করেছেন।

তাঁরা বলছেন, ‘‌জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে আমরা এখন ২০১২ সালে আছি। এই পরিবর্তনের কারণে গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারে ১১ দিন করে পরিবর্তন হয়। তার মানে হিসাবটা দাঁড়ায়.‌.‌.‌

“For 268 years using the Gregorian Calendar (1752-2020) times 11 days = 2,948 days. 2,948 days / 365 days (per year) = 8 years”

আট বছরের হিসেব করলে এখনই সেই সময়। ২০১২ সালের ঠিক আট বছর হচ্ছে ২০২০ সাল। আর এই বছরই তাই পৃথিবী ধ্বংসের সম্ভাবনার কথা বলছেন তাঁরা। যদিও সংবাদমাধ্যমে এই খবর বিপুল প্রচারিত হওযার পর কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ট্যুইটার থেকে এই তথ্য ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালটি শুরু থেকেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। এখন একটি তত্ত্ব দাবি করছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে। এই অদ্ভুত ধারণাটি একটি প্রাচীন ক্যালেন্ডার মায়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সারা বিশ্বে ব্যবহৃত হয়।

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারটি ১৫৮২ সালে প্রথম অস্তিত্ব নিয়ে আসে। আগে বিভিন্ন ধরনের ক্যালেন্ডার ব্যবহৃত হতো। এই তালিকায় মায়া ক্যালেন্ডার এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডারও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর ঘোরার সময়কে আরো ভালোভাবে প্রতিফলিত করে। জুলিয়ান ক্যালেন্ডার এই কক্ষপথটি সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না, তাই প্রতি বছর ১১ দিন কমতে থাকে।

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুসারে, আমরা যদি প্রতি বছর এই ১১ দিন হ্রাসের গণনা করি তবে বাস্তবে আমাদের ২০২০ নয়, ২০১২ সাল হওয়া উচিত। ২০১২ সাল শুরুর আগে অনেক বিশেষজ্ঞ বিশ্বের সমাপ্তির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সম্প্রতি বিজ্ঞানী পাওলো তাগালগায়ুনও এটি সম্পর্কে টুইট করেছেন, যা মুছে ফেলা হয়েছে। এই টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে বিশ্ব প্রযুক্তিগতভাবে ২০১২ সালে বাস করছে।

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে, প্রতি বছর প্রায় ১১ দিন হ্রাস হয়। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ২৬৮ বছরের (১৭৫২-২০২০) প্রতি বছর ১১ দিন হ্রাস হয়। এই ১১ দিনগুলোকে ২৬৮ দিয়ে গুণ করলে, দিনগুলোর সংখ্যা ২,৯৪৮ দিন হয়ে যায়। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুসারে, বিশ্ব সমাপ্ত হওয়ার সঠিক তারিখ ২১ জুন ২০২০।

এখন যদি আমরা বছরের ৩৬৫ দিন দ্বারা মোট দিনের সংখ্যাকে বিভক্ত করি তবে ফলাফল আসবে ৮ বছর। অর্থাৎ, আমরা আসলে ২০১২ সালের জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে বাস করছি এবং এই তত্ত্বের স্রষ্টা এই বছরটিকে বিশ্বের শেষ হিসেবে দেখছেন। এ সম্পর্কে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বলেছে, সুমেরীয়রা নিবিরু নামের একটি গ্রহ আবিষ্কারের পরে এই গল্পটি শুরু হয়েছিল। ভবিষ্যদ্বাণী প্রণেতারা ২০০৩ সালের মে মাসে পৃথিবীতে আশ্চর্য কিছু ঘটার কথা বলেছিলেন।

২০০৩ সালের মে মাসে এই ভবিষ্যদ্বাণীটির কোনো প্রভাব না পড়ায় ২০১২ সালের ডিসেম্বরে পৃথিবীর ধ্বংসের কথা বলা হয়েছিল, যা মায়া ক্যালেন্ডারের জীবনচক্রের উপর ভিত্তি করে ছিল।

সূত্র: কলকাতাটাইমস, আল-আরাবিয়া।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply