মহেশখালীতে নতুন উপজেলা চাই বা না চাই এই স্রোতে একটু সাঁতারকাটা – সাগর

ফেইসবুক কর্ণারঃ

অনেকটা অলস সময় তাই ফেইসবুকে নিয়িমিত ঢুঁ মারি এবং অনেকের মজার মজার লেখা পড়ি, আনন্দ পাই, চিন্তার খোরাক হয়, লেখক সম্পর্কে জানতে পারি। সবচেয়ে বেশি যেটা পারি তা হল- ওনি কোন এলেম ও আমলের (হেকমত) ভিত্তিতে ওনার লিখা বা লম্বা লম্বা বক্তিতা দিচ্ছেন।উপজেলা হবে কি না হবে তা প্রায় ১০০ ভাগই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। আমরা নিজেদের অবস্থান থেকে চাইতেও পারি অনেকেই আবার না চাইতেই পারে। যে যার দৃষ্টিকোণ থেকে লিখবে বলবে, বৈচিত্রতা থাকবে, আলোচনা হবে, তদবির হবে, ফাইল চালাচালি হবে অবশেষে হবে বা না হবে কিন্তু আমার (!) ইচ্ছা – ক্রেডিট কিন্তু আমার থাকতে হবে। এবং এই ক্রেডিট এবং পাল্টা ক্রেডিট নেয়া একদিন থামবে কিন্তু মনে হয় তার আগেই কেয়ামত হবে(!) …জাস্ট মোকারিং।

এই ক্রেডিট নেয়ার কারণটা হলো আমরা বোকা নাগরিক এবং নিদানীং পেইড বেনেফিশারি গ্রুপ। খুব জানতে ইচ্ছা করে বর্তমান মহেশখালী যে উপজেলা আছে এটি সৃষ্টির ইতিহাস, প্রেক্ষাপট, প্রয়োজনিয়তা এবং কাদের কি কি অবদান বা তদবির আছে তা কি আমরা কখনো বিশ্লেষণ করেছি? আমি যে মানুষটার নাম জানি – তার নাম কোনদিন ত কারও মুখ থেকে শুনলাম না। মজার বিষয় হল উনিও ——মহেশখালীর লোক। অনেক সিনিয়রের লেখায় হতাশা দেখলাম এমনকি নালিশের পর্যায়ে ছিল। সবিনয়ে জানতে চাই- এটা আমাদের ফার্স্ট জেনেরেশনের লিডারশিপ ফেইলুর ছিল কিনা? অথবা ওনাদের অসহায়ত্ব ছিল কিনা? যদি তাই হয় তাইলে কারণ কি ছিল? ভারতীয় উপমহাদেশের ধারাবাহিকতায় অন্যান্য এলাকার মত আমাদের মহেশখালীতেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়টা পারিবারিক হেরিডিটিতেই চলে আসছে। এটা প্রাক্টিক্যালি খারাপ না কিন্তু তখনই ঝামেলাটা হয় যখন পরিবারগুলো বা রাজনৈতিক নেতারা শুধু ক্রেডিট নেয়ার প্রতিযোগিতায় এক হতে পারে না সাধারণ এবং জন গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ে।
আজ তেমনই একটা বিষয় হল “মহেশখালীতে নুতন উপজেলা চাওয়া” হাজার হাজার যুক্তি দেখতে পারবেন না করার জন্য কিন্তু প্রয়োজনিয়তাই যদি প্রধান হয় তাইলে হবেই হবে কিন্তু আমরা সবাই এখন যা করছি তা জাস্ট ঈউসিং পলিটিক্যাল উওপেন এগেনস্ট পিপল। কাজের কাজ কিছুও হবে না। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানতে চেয়েছিলাম প্রিয় তোফায়েলের মৃত্যুর পর ঘাট নিয়ে নৌ-পথ নিয়ে যে একটা আওয়াজ উঠেছিল তা আজ কোন পর্যায়ে? তারও আগে লিখেছিলাম বদরখালী (জনতা বাজার) থেকে কক্সসবাজার পর্যন্ত নিরাপদ নৌ পথ সৃষ্টি করার জন্য। কোনদিন কি চিন্তা করেছিলেন কেন এটা বলেছিলাম? ঘাটে নৌকা থেকে ফেলে দেয়ার ভয় কিছুটা হলেও কমত না? তারও বছর দেড়েক আগে বলেছিলাম আমরা আস্তে আস্তে আগাই একটা কলেজ করি।
বিদেশথেকে পর্যন্ত সবাই সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিল কেউই তো একটা সাড়া শব্দও দেন নাই।
এমনকি প্রতি উনিয়নে সামান্য একটা এম্বুলেন্সের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম আজকের বিশাল বিশাল দেশপ্রেমিক নেতারা একটা অভিমত পর্যন্ত দেন নাই। কারণ মনে করেছেন ক্রেডিট মনে হয় অন্য কারো কাছে চলে যাবে। আমি এক লক্ষ বা পঞ্চাশ হাজার টাকা দিলে ওটা তো নিউজ হবে না, আমার ক্রেডিট থাকবে না আরো কত কি? ভাই সব এই সব ছোট ছোট কাজ না করার জন্য কি আবার তথাকতিত দক্ষিণের নেতারা দায়ী? বদরখালী থেকে সরকারি নিয়ম নীতি মেনে একটা যদি নৌ রোড ইজারা নিয়ে রান করাতে পারেন পেকুয়া থেকে শুরু করে সবাই তা ব্যবহার করবে আমাদের বাণিজ্যের নতুন একটা ক্ষেত্র হবে। আমি ভাই মাস্টার মানুষ স্বল্প মেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থ তেমন বুঝিনা, রাজনৈতিক বিলাস নাই (মূলত আমার যোগ্যতা নাই বলে) কিন্তু নাগরিক হিসাবে সবার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ সুবিধা কিভাবে পেতে পারি যা নিয়ে পরামর্শ দিতে পারি, সমাজের প্রতি আমার ঋণ পরিশোধের জন্য। কে শুনলো কে না শুনলো এটা আমার বিবেচ্য নয়। এই সবকিছু মূলত সবার রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে আমরা শুধু তালি বাজাতে পারি। পরিশেষে বলতে চাই নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোর পুনঃ-বিন্যাস অবশ্যই দরকার। এটাতে কারও দ্বিমত নাই।
কথা প্রসঙ্গে একবার মাননীয় এম পি মহোদয়কে বলেছিলাম মহেশখালীতে যে পরিমান জনসংখ্যা আছে ইউরোপের অনেক দেশ আছে আরো কম জনসংখ্যা। সুতরাং উপজেলা বলেন, থানা বলেন বা ইউনিয়ন বলেন আমাদের দরকার আছে। কিন্তু প্রশ্ন হল রাজনৈতিক নেতারা কি চায়? বা কেন চায় বা কেন চায়না? চাওয়া বা না চাওয়ার নিয়ত কি? কারণ —-ইন্না মা আমলে বিন নিয়াত ———–বুঝার জন্য একটা গল্প বলি—
এক লোক কুয়ায় পড়েছে। উপর থেকে একজন লোক অনেক কষ্টে উনাকে ওপরে তোলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু পারছেন না। একটা দড়ি দিলেন। দড়িটা নীচ পর্যন্ত গেলোনা। এরপর নিজের পরা পাজামার ফিতে খুলে দড়ির সাথে গিট্টু দিলেন। লোকটা কোনো রকমে দড়ি ধরে এবার উপরে ওঠতে চাইলো। কিন্তু মাঝপথে দড়ি ছিঁড়ে আবার নীচে পড়ে গেলো। ওপর থেকে ভদ্রলোক বললেন- তুমি এখন ক্লান্ত হয়ে গেছো। একটু জিরিয়ে নাও। আমি তোমাকে ওপর থেকে কলা আর বিস্কুট দিচ্ছি । তুমি খেয়ে নাও। তোমার শরীরে ঠান্ডা লাগতে পারে। তাই কলা-বিস্কুট খাওয়ার পর এই ঔষধটি খেয়ো। বুঝতে পারছোতো- বেঁচে থাকার জন্য তোমার এখন অনেক শক্তি দরকার। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আরেক লোক। তিনি সবকিছু দেখে বললেন- আপনি দড়ি দিলেন, বিস্কুট দিলেন, কলা দিলেন , ঔষধ দিলেন। এমনকি লোকটিকে সাহায্য করার জন্য নিজের পাজামার ফিতে পর্যন্ত খুলে দড়ির সাথে গিট্টু দিলেন। কত মহানুভব আপনি। কিন্তু একটা জিনিস কিছুতেই বুঝতে পারছিনা।
আপনার পাশে যে একটা লম্বা মই আছে সেটা দিয়ে দিলেইতো লোকটি এতোক্ষণে ওপরে ওঠে যেতে পারতো। বেচারাকেও এতো পেরেশান হতে হতোনা। আপনাকেও এতো কষ্ট করতে হতোনা। বেচারারা যদি পেরেশানেই না থাকে তবে সাহায্য করবে কে? রুটি, বিস্কুট , ঔষধের জন্য ডোনেশান ওঠাবে কে। আর এতো দ্রুত মই নামিয়ে দিয়ে যদি উদ্ধারই করে ফেলি তবে বেচারাদের নিয়ে রাজনীতিটা করবে কে? তাই, প্রয়োজনে পায়জামার ফিতা খুলে ন্যাংটো হয়ে যাবো তারপরও কিন্তু ওপরে ওঠার মই দিবোনা। যেই মুহুর্তে মই দেয়া শেষ। সেই মুহুর্তে কুয়ার মানুষদের নিয়ে রাজনীতি করাও শেষ। সুতারং যতই থানা, ইউনিয়ন বা উপজেলা চান দিব না বা দিবো তা জিয়ে রাখলেই লাভ এবং রাজনৈতিক ফায়দা দুই পক্ষের জন্য। আরেকটা বড় বিষয় হল অনেকের একছত্র জনসমর্থন যা আমরা অনেকেই মেনে নিতে পারিনা। ভাই এই সব তো আপনাদেরই ব্যর্থতা এবং তা চাইলেই আস্তে আস্তে আপনারাও অৰ্জন করতে পারেন শুধু শুধু জেলাস না হয়ে আপনারাও এগিয়ে আসেন। আবার বলছি প্রতিটি উন্নয়নের সাথে কিছু কিছু ভায়োলেন্স থাকে। আমি আজকে আর সমালোচনা করবো না কারণ সমালোচনা কোন সমাধান নয় কিন্তু আন্তঃসমালোচনা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইনপুট। সুতারং প্রিয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব আপনারা কি চান কেন চান? কিভাবে চান? চাওয়ার পদ্ধতি কি? বাস্তবায়নের পদ্ধতি কি ? বাধা কি কি ? চাওয়ার জন্য দেয়ার (ত্যাগ) মানসিকতা আছে কিনা? প্লিজ একটু পরিষ্কার করেন। কারণ আপনারা যা পারেন তা আমরা পারিনা। আপনারা জনগণের প্রতিনিধি। আপনাদের প্রতি আমাদের সম্মান অনেক আছে। পরিশেষে বলতে চাই এটা বাস্তবায়ন করার জন্য যদি আমি সাধারণ নাগরিক হিসাবে নূন্যতম কোন অবদান রাখতে পারি এটা আমার ক্রেডিট নয় বরং নাগরিক দায়িত্ব। আসুন এক হয়ে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করি যে ফরম্যাটেই হোক যার আহ্বানেই হোক। আমি প্রস্তুত আপনি ?

লিখেছেন
আওলাদ হোসেন সাগর
এসোসিয়েট প্রফেসর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply